বীর বাংলা নিউজঃ
ঈশ্বরদী জংশন ও বাইপাস স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে সমকাল সুহুদ সমাবেশ ঈশ্বরদী ইউনিটের আয়োজনে ও আর কে বাবুর সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক ওহেদুজ্জামান টিপুর সঞ্চালনায় ঈশ্বরদী জংসন ষ্টেশনের ৩ নং প্লাটফর্মে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ১০ দফা দাবী পাঠ করেন বিএনপি নেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহিন, ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন, দৈনিক সমকালের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি সেলিম সরদার, জাহিদুল আলম সনু, কমিউনিষ্ট নেতা আহসান হাবিব, সানজিদা মাহবুব প্রাপ্তি, সাংবাদিক ওয়াহেদ আলী সিন্টু, সেলিম আহমেদ, যুবনেতা দিপু প্রমুখ।
২ ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে শহরের বিভিন্ন পেশাজীবী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। প্ল্যাটফর্মজুড়ে “ঈশ্বরদীকে অবহেলা করা বন্ধ করুন”, “ট্রেন বন্ধ নয়, ট্রেন চালু চাই”, “রেলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন”—এমন নানা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে শত শত মানুষ অবস্থান নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাইপাস ষ্টেশনে ধুমকেতু, বনলতা, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রনের যাত্রা বিরতি, সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন ঈশ্বরদী থেকে চালু, বিভিন্ন ট্রেনের বন্ধের দিন ও সময় পরিবর্তনসহ ১০ দফা দাবী তুলে ধরা হয়। বক্তারা আরও বলেন, ঈশ্বরদী বাংলাদেশের রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে ঈশ্বরদী শুধু একটি স্টেশন নয়, বরং এটি দেশের রেল ইতিহাসের অংশ। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক আন্তঃনগর ট্রেন ঈশ্বরদী জংশন থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনেক ট্রেন ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনেও আর যাত্রাবিরতি করে না। এতে ঈশ্বরদী, পাকশী, রূপপুর ও আশপাশের কয়েক উপজেলার মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একসময় ঈশ্বরদী ছিল দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলওয়ে জংশন। কিন্তু আজ পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্তে এই ঐতিহ্যবাহী স্টেশনের গুরুত্ব ধ্বংস করা হচ্ছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “রেল কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে বৃহত্তর গণআন্দোলনের মাধ্যমে ঈশ্বরদীবাসী তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাজপথে নামবে এবং আগামী কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে সমাবেশে ঘোষণা করা হয়।