1. admin@birbangla24.com : birbangla24.com :
  2. tipuisd@gmail.com : বীর বাংলা ডেক্সঃ : বীর বাংলা ডেক্সঃ
শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঈশ্বরদীর সুজন নিহত ঈশ্বরদী পৌরবাসীর উপর করের বোঝা চাপান হবে না– মেয়র ইছাহক আলী মালিথা ঈশ্বরদীর চরগড়গড়ির খাইরুল হত্যা মামলার প্রধান আসামী মজনু গ্রেফতার ঈশ্বরদী নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদী জমজম হাসপাতালে ঝাড়ুদার দিয়ে প্রসব করানোর অভিযোগ | নবজাতকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র আহতের প্রতিবাদে সহপাঠীদের মানববন্ধন ঈশ্বরদীতে সহপাঠীর ছুরিকাঘাতে স্কুল ছাত্র আহত ঈশ্বরদী ইপিজেড এলাকায় স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন | স্বামী আটক ঈশ্বরদীতে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু আজ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী

১৯ মার্চ ১৯৭১

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ মার্চ, ২০২২
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

আজ ঐতিহাসিক ১৯ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের (সেই সময়ের জয়দেবপুর) বীর জনতা গর্জে উঠেছিল এবং সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। মনে পড়ে মার্চের সেই উত্তাল দিনগুলিতে বাঙালি জাতির এক অবিস্মরণীয় গণ-অভ্যুত্থানের কথা।

১৯৭১ সালের পহেলা মার্চ দুপুরে হঠাৎ এক বেতার ভাষণে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেন। এ কথা শোনামাত্রই সারা দেশের মানুষ স্বতঃফূর্তভাবে প্রতিবাদ মুখর হয়ে এ ঘোষণার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে। দেশের সর্বত্রই স্লোগান উঠে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘পাঞ্জাব না বাংলা,বাংলা-বাংলা’, ‘তোমার আমার ঠিকানা ,পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’, ‘তুমি কে আমি কে, বাঙালি-বাঙালি’।

বঙ্গবন্ধু ঢাকায় পূর্বানী হোটেলে এক সভায় ইয়াহিয়ার ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং ঢাকায় ২রা মার্চ এবং সারা বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ৩রা মার্চ হরতাল আহ্বান করেন এবং ৭ই মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা আহ্বান করেন।

জয়দেবপুরে (আজকের গাজীপুর ) আমার পরামর্শে ২রা মার্চ রাতে তৎকালীন থানা পশু পালন কর্মকর্তা আহম্মেদ ফজলুর রহমানের সরকারি বাসায় তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ হাবিব উল্ল্যাহ এক সর্বদলীয় সভা আহ্বান করেন। সভায় আমাকে (আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক) আহ্বায়ক করে এবং মেশিন টুলস্ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা জনাব নজরুল ইসলাম খানকে কোষাধ্যক্ষ করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট এক সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সদস্য হন সর্বজনাব আয়েশ উদ্দিন, মোঃ নুরুল ইসলাম (ভাওয়াল রত্ন), মোঃ আঃ ছাত্তার মিয়া (চৌরাস্তা), থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম হজরত আলী মাস্টার (চৌরাস্তা), মোঃ শহীদ উল্ল্যাহ বাচ্চু (মরহুম), হারুন-অর-রশিদ ভূঁইয়া (মরহুম), শহিদুল ইসলাম পাঠান জিন্নাহ (মরহুম), শেখ আবুল হোসেন (শ্রমিক লীগ), থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডাঃ সাঈদ বকস্ ভূঁইয়া (মরহুম)। কমিটির হাই কমান্ড (উপদেষ্টা) হন জনাব মোঃ হাবিব উল্ল্যাহ (মরহুম), শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা এম. এ. মুত্তালিব এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নেতা বাবু মনিন্দ্রনাথ গোস্বামী (মরহুম)।

৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার পূর্বেই আমরা এ কমিটি গঠন করেছিলাম। পেছনের ইতিহাস এই যে, আমি ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে ‘স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস’-এর সাথে সম্পৃক্ত হই। নিউক্লিয়াসের উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করা। যা মূলত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৬২ সালেই ছাত্রলীগের মধ্যে গঠিত হয়েছিল। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যেই সশস্ত্র যুদ্ধ করে পাকিস্তানিদের বিতাড়িত করে বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে বাঙালি সৈন্যদের মধ্যেও নিউক্লিয়াস গঠিত হয়েছিল ১৯৬৪ সালে। যার বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যাবে পাকিস্তানিদের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট স্ব-ঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের দায়ের করা ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান’ মামলায়, যা বিখ্যাত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত।

স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের সাথে জড়িত থাকার কারণেই বুঝতে পেরেছিলাম যে, সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার এটাই মাহেন্দ্রক্ষণ। জয়দেপুরে (গাজীপুরে) সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ৩ মার্চ ‘৭১, গাজীপুর স্টেডিয়ামের পশ্চিম পার্শ্বের বটতলায় এক সমাবেশ করে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্লোগান ওঠে, ‘ইয়াহিয়ার মুখে লাথি মার, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। পতাকা ধরেছিলেন হারুন ভূঁইয়া এবং অগ্নিসংযোগ করেছিলের শহীদউল্যাহ বাচ্চু আর স্লোগান মাস্টার আঃ ছাত্তার মিয়া পায়ের আঙ্গুলের ওপর ভর দিয়ে স্লোগান দিত।

আমরা ৭ই মার্চ সোহরাওয়ার্দী (তৎকালীন রেসকোর্স) উদ্যানে সে সময় জয়দেবপুর (গাজীপুর) থেকে হাজার হাজার বীর জনতা ট্রেনে করে এবং শতাধিক ট্রাক ও বাসে করে মাথায় লাল ফিতা বেঁধে জনসভায় যোগ দিলাম। সে এক অপূর্ব দৃশ্য। আজকে ভাবতেও অবাক লাগে, কিভাবে এ জনস্রোত এসে মিশে গিয়েছিল ৭ই মার্চের মহাসমুদ্রে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত